এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: রক্তক্ষরণ অব্যাহত। কলকাতার স্টিয়ারিং বাম দিকে ঘোরানোর ডাক দিয়েও পুরযুদ্ধে আসন সংখ্যায় দুই অঙ্কও পেরোল না বামেরা। তবু বিধানসভার ট্রেন্ড বদলে হারানো জমি ফেরতের ইঙ্গিত দিল মহানগর। ছোট গোল বাড়ি দখলের লড়াইয়ে গেরুয়া শিবিরকে টেক্কা বামেদের। পরাজয়ের রেকর্ডের মাঝে ৬৫টি ওয়ার্ডে দ্বিতীয় স্থানই সান্ত্বনা পুরস্কার বামেদের। প্রত্যাশা মতোই কলকাতা ঢাকল সবুজ রঙে। ১৪৪ ওয়ার্ডের মধ্যে ১৩৪ আসনেই ফুটল জোড়াফুল। দু একটি ওয়ার্ডে টিমটিম করে জ্বলল বিরোধী শক্তির প্রদীপ। এক চেটিয়াভাবে বিরোধীদের উড়িয়ে ছোট লালবাড়ি দখলে রাখল তৃণমূল। বিধানসভার দরজা বন্ধ হওয়ার পর এবার পুরভোটেও ১৪ থেকে নেমে ২ আসনেই শেষ বামেদের বিপ্লব। যদিও পুরভোটের ফল বিশ্লেষণে রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, আসলে হারানো জমি খানিকটা হলেও ফিরে পেয়েছে বামফ্রন্ট। ফলাফলের পরিসংখ্যান বলছে, আসন সংখ্যায় পিছিয়ে থাকলেও বিজেপির সঙ্গে ভোট শতাংশের তুলনায় অনেকটাই এগিয়ে বামেরা। ১১ শতাংশ ভোট পেয়েছে বামফ্রণ্ট। যেখানে বিজেপি-র প্রাপ্ত ভোট ৯ শতাংশের আশপাশে। পুরভোটের চূড়ান্ত ফল অনুযায়ী, কলকাতার ৬৫ আসনে বামেরা রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে। বিজেপি দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ৪৭ ওয়ার্ডে, কংগ্রেস দ্বিতীয় স্থানে ১৬ আসনে আর নির্দল প্রার্থীরা দ্বিতীয় স্থান পেয়েছেন পাঁচটি ওয়ার্ডে। একে আদতে বামেদের উত্থান বলে দেখছেন বিশেষজ্ঞদের সিংহভাগ। যদিও ২০১৫ সালের ভোটের ফল অনুযায়ী লজ্জার হারের ভবিতব্য পাল্টায়নি বামেদের। ১০ নম্বর বরোর ১২টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১টি এবং ১১ নম্বর বরোর ৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১টি গিয়েছে বামেদের ঝুলিতে। মুখরক্ষা শুধু ১০৩ নম্বর ওয়ার্ডে CPIM প্রার্থী নন্দিতা রায় এবং ৯২ নম্বর ওয়ার্ডে CPI প্রার্থী মধুছন্দা দেবের জয়ে। সেভাবে দাগ কাটতে পারল না রেড ভলান্টিয়ার প্রার্থীরাও। ফল নিয়ে প্রতিক্রিয়ায় সুজন চক্রবর্তী বলেন, 'ত্রিপুরার BJP-র চাইতে পিছিয়ে থাকল রাজ্যের তৃণমূল!! নির্বাচনে চূড়ান্ত নীতিহীনতা এবং প্রহসনের পরেও কলকাতা কর্পোরেশনে হান্ড্রেড পার্সেন্ট পেল না? এত কিছুর পরেও ১৪৪ টা হলো না? টাকা, ছাপ্পার উপর শাসকের বিশ্বাস আর থাকবে? গুন্ডা, পুলিশ, কমিশন সব সত্ত্বেও ফেল? ছিঃ তৃণমূল!! ছিঃ।' বামেদের হারের ধারা অব্যাহত থাকলেও বিধানসভার দুরবস্থার পর নগরের যুদ্ধে খানিক হলেও আস্থা ফিরেছে মানুষের। এর জন্য করোনা-কালে রেড ভলেন্টিয়ারদের অবদান, ক্যান্টিন, লাগাতার মানুষের পাশে থাকা, কৃষক আন্দোলনের সময় ধারাবাহিক আন্দোলনের মতো বেশ কিছু কারণ ফের সম্মানজনক বিরোধীর তকমা ফেরাতে চলেছে বামেদের, বলে অভিমত বিশেষজ্ঞদের। এ সম্পর্কে প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম বলেন, 'বামেদের বিরোধী হিসেবে উত্থান শুভ। এর অর্থ বাংলার মানুষ কোনও ধর্মীয় মেরুকরণ শক্তিকে পছন্দ করে না।'
from Bengali News, Bangla News, বাংলা সংবাদ, বাংলা নিউজ, News in Bengali, কলকাতা বাংলা খবর - Ei Samay https://ift.tt/3Fk9iiW
No comments:
Post a Comment
Your Message Will Riplied Within 24 Hours.
Thank You.