গৌরনাথ চক্রবর্ত্তী, স্টিং নিউজ করেসপনডেন্ট, কাটোয়া: প্রাচীনগঙ্গা বিধৌত সমভূমি অঞ্চলের প্রাচীন ঐতিহাসিক ও পৌরাণিক ক্ষেত্র দাঁইহাট শহর।প্রাচীনকাল থেকেই পুণ্যার্থীরা পুণ্য অর্জনের জন্য দাঁইহাটের গঙ্গার ঘাটে স্নান করতে আসত।বর্ধমানের মহারাজরাও এর ব্যতিক্রম নন।বর্ধমানের রাজারা দাঁইহাটের গঙ্গার ঘাটে স্নান করবেন বলে এখানে তাঁরা গঙ্গাবাস,চাঁদনী, গঙ্গার ঘাট ও অনেকগুলি শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করেন।এমনকি রাজারা এই জায়গাগুলিকে স্বর্গতুল্য পুণ্যক্ষেত্র মনে করতেন তাই তাঁরা দাঁইহাটে তাদের মৃত্যুর পর গঙ্গার তীরে সমাধিক্ষেত্রগুলো নির্মাণ করেন।
১৭৪০ খ্রীষ্টাব্দে অগ্রহায়ণ মাসে কৃষ্ণপক্ষের সপ্তমী তিথিতে বর্ধমানরাজ কীর্ত্তিচন্দ্র পরলোক গমন করেন।১৭৪৪খ্রীষ্টাব্দে রাসপূর্ণিমার আগের দিন কীর্ত্তিচন্দ্রের পুত্র চিত্রসেন পরলোক গমন করেন।১৭৭০ খ্রীষ্টাব্দে ২৫ শে মে চিত্রসেনের ভাইপো বর্ধমান রাজমহারাজধিরাজ তিলোকচন্দ্র বাহাদুর পরলোকগমন করেন।এদের প্রত্যেকের সমাধিক্ষেত্র দাঁইহাটের গঙ্গার তীরে অবস্থিত।কিন্তু বর্তমানে কেবলমাত্র কীর্ত্তিচন্দ্রের সমাধিক্ষেত্রটি ছাড়া আর সবই অবলুপ্ত হয়ে গেছে।
স্থানীয় বয়স্ক মানুষদের কাছ থেকে জানা যায় যে,তারা ছোটবেলায় বাকীদুটি সমাধিক্ষেত্রের ধ্বংসস্তুপ নিজেদের চোখে দেখেছেন।
বর্ধমান রাজাদের রীতি অনুযায়ী কোনো রাজা বা রাজমহিষীর মৃত্যু হলে তার অস্থি গঙ্গার তীরে সমাহিত করে তার উপরে সমাধি মন্দির নির্মাণ করা হত।সেখানে একটি শালগ্রাম শিলা প্রতিষ্ঠা করে পুজা ও ভোগ প্রদান করা হত এবং অতিথি ভোজন করা হত।রাজারা জীবিত অবস্থায় যে যে খাবার ও বস্ত্র পচ্ছন্দ করতেন সেইরকম খাবার ও বস্ত্র শালগ্রাম শিলার পুজোয় উৎসর্গ করা হত।বর্তমানে এরকম কোনো ব্যবস্থায় প্রচলিত নাই।
বর্ধমানরাজ কীর্ত্তিচন্দ্রের সমাধিক্ষেত্রটি বর্তমানে পূৃর্ব-বর্ধমানের দাঁইহাট পৌরসভার অন্তর্গত ছারি গঙ্গার তীরে ২নং ওয়ার্ডে অবস্থিত।যা বর্তমানে সমাজবাটী বা সমাজবাড়ী নামে পরিচিত। এই সমাধিক্ষেত্রটি দেখভাল করার জন্য শেষ বেতনভোগী বর্ধমান রাজকর্মচারী ছিলেন বিনয় কৃষ্ণ মহান্ত এবং শিবকালী ভট্রাচার্য।
দাঁইহাটে গিয়ে দেখা গেল আংশিক সংস্কার করা হয়েছে এমন পরিস্থিতিতে সৌধটি পড়ে রয়েছে।স্থানীয় মানুষদের কাছ থেকে জানা গেল,১২-১৩বছর আগে ডঃ অমল রায়ের নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গ পুরাতত্ত্ব বিভাগ এটি সংস্কার করতে শুরু করেন।কিন্তু অজ্ঞাতকারণে তার কাজ অর্ধসমাপ্ত হয়ে পড়ে রয়েছে।পাড়ার মানুষজন তাদের অব্যবহার্য জিনিসপত্র ঐ সৌধে স্তুপাকারে রেখে দিয়েছে।ফলে দাঁইহাটবাসীর আক্ষেপ এর মান ও মর্যাদা দুইই ক্ষুণ্ণ হয়েছে।
দাঁইহাটের আঞ্চলিক গবেষক অশেষ কয়াল জানালেন,প্রাচীন এই রাজকীয় সৌধগুলি সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ না হলে ইতিহাসের অমর্যাদা করা হয়।তিনি আরও জানালেন,বর্তমান ছাত্র-সমাজকে ইতিহাসমুখী করার জন্য ও ইতিহাসের সম্মুখজ্ঞান অর্জনের জন্য এই সৌধগুলির রক্ষণাবেক্ষণ একান্ত প্রয়োজন।বর্তমানে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ইতিহাস শিক্ষার ক্ষেত্রে সম্মুখজ্ঞানকে বিশেষ গুরত্ব দেওয়া হচ্ছে।
দাঁইহাট পৌরসভার পৌরপ্রধান শিশির মণ্ডল জানালেন যে,এই ঐতিহাসিক সৌধগুলি সংস্কার ও সংরক্ষণেরর জন্য আমরা ইতিমধ্যেই আলোচনা ও ভাবনা চিন্তা শুরু করেছি।এবিষয়ে আগ্রহী মানুষদের ও দাঁইহাটবাসীকে সঙ্গে নিয়ে একাজে আমরা সফল হবই এটা তাঁহার দৃঢ় বিশ্বাস বলে তিনি জানান।
from Sting Newz | 24 x 7 Online News From Bengal https://ift.tt/2vAuiSZ


No comments:
Post a Comment
Your Message Will Riplied Within 24 Hours.
Thank You.